গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নয়া দিল্লিতে একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা প্রধানত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পলাতক হাসিনা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিক্ষোভ ছিল একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”। ড. ইউনূস এবং তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। তিনি ড. ইউনূসকে “খুনি ফ্যাসিস্ট”, “সুদখোর”, “অর্থ পাচারকারী” এবং “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এবং বলেন ড. ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশে কখনোই “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন” সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি “মৃত্যু উপত্যকা” এবং “বিশাল কারাগারে” পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তিনি গত এক বছরের ঘটনা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি “প্রকৃত ও নিরপেক্ষ তদন্ত” করার আহ্বান জানান ।
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশ সরকার “উসকানিমূলক” এবং “বিচারাধীন বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ” হিসেবে দেখছে। শেখ হাসিনা ভারতে থাকাকালীন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন না—এমন প্রাথমিক আশ্বাসের বিপরীতে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি কেবল দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং প্রত্যর্পণ চুক্তির কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে ভারত সরকার শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
