অন্তর্জাতিক: ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধছে, ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। বিক্ষোভের ভিডিও যাতে বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতাদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা—বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাবেন না। আপনারা যদি গুলি চালান, তবে আমরাও (যুক্তরাষ্ট্র) পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করবো।
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক এক জনপদে পরিণত হয়েছে এবং তিনি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে এখনই কোনো প্রবাসী বিরোধী নেতাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চান না বলে আভাস দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ- এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদান এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। আটক হয়েছে কয়েক হাজার
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার সবার আছে এবং তা রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক দুর্দশা, মুদ্রাস্ফীতি (যা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে) এবং রিয়ালের দরপতনের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ‘খামেনির মৃত্যু চাই’ এবং রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বেশ কিছু ব্যাংক, বাস এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ছবি প্রকাশ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই আন্দোলনের জন্য বিদেশি শত্রু এবং বিরোধী গোষ্ঠীকে দায়ি করেছেন। তিনি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ভণ্ডদের সামনে মাথা নত করবে না। তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা সহিংসতা বা নাশকতায় জড়িত হবে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
