শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
Homeরাজনীতিসম্প্রীতির বার্তা রুমিন ফারহানার

সম্প্রীতির বার্তা রুমিন ফারহানার

অনলাইন ডেস্ক. ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বার্তা দিয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‌‌‌‘ভি‌‌ন্ন ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহনশীলতার বন্ধন অটুট রাখাই এই এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুরে পাগল শংকর আশ্রমের বার্ষিক মহোৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার সকাল শুরু হয় ওয়াজে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই দেখি বাউল গান আরম্ভ হয়েছে। আবার রাতের বেলায় কীর্তনের আওয়াজ শোনা যায়। আমি হাসতে হাসতেই এসব কথা বলি। এই সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার বন্ধন আমরা অন্তত সরাইল-আশুগঞ্জে ধরে রাখতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ‘ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের মতপথ আলাদা হতে পারে। কিন্তু এলাকার মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে যেই ভালোবাসার বন্ধন সেটা যেন কখনো নষ্ট না হয়।’

বিএনপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, ক্ষমতায় একেক সময় একেক দল গেছে। কিন্তু আমার সংখ্যালঘু ভাইদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন কোন অংশে কম হয়নি।

আমার মনে আছে, আমি যখন ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলাম, আমি একটি দৈনিকের রিপোর্ট তুলে ধরে বলেছিলাম। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তোর সংখ্যালঘুর শতকরা হিসেব ছিল ২২ শতাংশ। সেই সংখ্যা কমতে কমতে এখন নয় শতাংশ এসে কেন দাঁড়ালো? এই জন্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল যখন যারা ক্ষমতায় গেছে তারা কেউ দায় অস্বীকার করতে পারবে না।

রুমিন ফারহানা আরো বলেন, ‘আমি রামুতে গিয়েছি, নাসিরনগরে গিয়েছি, বানারি পাড়ায় গিয়েছি, কুমিল্লায় গিয়েছি, রংপুরে গিয়েছি। আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দিরের যখন হামলা হয়েছে, আমাকে বিএনপির তরফ থেকেই পাঠানো হয়েছিল।

তখন আমি জায়গাগুলো পরিদর্শন করেছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকরিয়া আমার যে সংসদীয় আসন সরাইল-আশুগঞ্জ অন্তত এখানে আমি কোনরকম কোনো উগ্রতা, উশৃঙ্খলতা বা বিশৃঙ্খলা দেখিনি। এখানে নানা মত, ধর্ম, নানান গোষ্ঠীর মানুষ, সম্প্রীতির সঙ্গে আবহমান কাল থেকে পাশাপাশি বাস করে আসছে। আমাদের এই এলাকা যেমন বাউল গানের, তেমনি কীর্তনের, আবার তেমন ওয়াজ মাহফিলের।

উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আকুল আবেদন থাকবে, আমাদের আবহমানকালের যে কৃষ্টি, সংস্কৃতি সেটা রক্ষার স্বার্থে, আমাদের যে সম্প্রীতির বন্ধন সেটাকে অটুট রাখার স্বার্থে, সত্য এবং ন্যায়ের স্বার্থে, চাঁদাবাজি মামলা বাণিজ্যকে বন্ধ রাখার স্বার্থে যাকে আপনার যোগ্য প্রার্থী বলে মনে হয় তার বাক্সে ভোটটা দিবেন। আমি যদি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, তাহলে কোন মহল, গোষ্ঠী, দল বা মানুষ যেন সাহস না করে জনগণের রায়কে উল্টে দিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করার।

এ জাতীয় আরো সংবাদঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদঃ

সাম্প্রতিক মন্তব্য