এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি হবে আইনের শাসন, কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব নয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা”। তিনি প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেন। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তাঁর সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, ততটাই কঠোর হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কি দেননি—তা বিবেচ্য নয়, রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আসন্ন রমজান উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না। তিনি নিত্যপণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন এবং মিতব্যয়িতার ওপর জোর দেন।
ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মুক্তিপ্রিয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের মালিক জনগণ এবং সরকার তাঁদের কাছে সর্বদা দায়বদ্ধ থাকবে।

