নূরী আল-মালিকির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইরাকি রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে শিয়া দলগুলোর বৃহত্তম জোট কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক (Coordination Framework) এর অভ্যন্তরে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার বিষয়ে সমর্থন বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের একটি অংশ তাকে সমর্থন দিলেও, জোটের সকল শরিক দল বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা সর্বসম্মত ঘোষণা আসেনি। আল-মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নিয়ে ইরাকের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ইরাকের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়; সুন্নি এবং কুর্দি দলগুলোর সমর্থনও অপরিহার্য।
মালিকির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
১. মুক্তাদা আল-সদরের বিরোধিতা: ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদর এবং তার অনুসারীরা ঐতিহাসিকভাবেই মালিকির ঘোর বিরোধী। সদরপন্থিদের বিক্ষোভ বা রাজপথের আন্দোলন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২. সুন্নি ও কুর্দি অবস্থান: ইরাকের সরকার গঠনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শিয়া হলেও পার্লামেন্টে সুন্নি ও কুর্দি দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। মালিকির সাথে এই গোষ্ঠীগুলোর অমীমাংসিত অনেক ইস্যু রয়েছে।
নূরী আল-মালিকিকে শিয়া জোটের সমর্থন প্রদান ইরাকের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন। তবে এই সমর্থন তাকে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা এবং ইরাকের অস্থিতিশীল রাজপথের পরিস্থিতির ওপর।

