Site icon Daily R News

পবিত্র রমজান শুরুর আগেই বাজার চড়া!

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজার ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সাধারণত চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজান শুরুর আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সবসময় পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করায়। বন্দরের সক্ষমতা, পাইকারি বাজারের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর তদারকি বাড়ানো না গেলে রমজানের শুরুতে মূল্যচাপ কমানো কঠিন হতে পারে। রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে সৃষ্ট জটিলতার কারণে সরবরাহ সংকটে পণ্যের দাম বাড়ছে। বর্তমানে বন্দরে শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি ভোগ্যপণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ছোলা, ডাল, ভোজ্য তেল ও চিনির মতো নিত্যপণ্য রয়েছে।

ইফতারের অপরিহার্য উপাদান ছোলা ও বিভিন্ন প্রকার ডালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।গত কয়েক সপ্তাহে গরুর মাংস এবং ব্রয়লার মুরগির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি বাড়িয়েছে এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে তদারকি পর্যাপ্ত না হওয়ায় অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে আমাদের সাধারণ ক্রেতাদেরও উচিত প্রয়োজনে অতিরিক্ত পণ্য মজুত না করা, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। সঠিক তদারকি আর ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কেবল পবিত্র রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
Exit mobile version