Site icon Daily R News

লোকান্তরিত জিয়াউর রহমান সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ শাসক ছিলেন

ইউসুফ আলী প্রধান: জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নেন। একই বছর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫-৭৬ সালে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। তাঁর শাসনামলে সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, শিল্পায়ন এবং জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় তৈরি পোশাক শিল্পের সূচনা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার লক্ষ্যে সার্ক গঠনের ধারণা উত্থাপন করেন। জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিসরে ভিন্নমত ও বিতর্ক বিদ্যমান থাকলেও, বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত।

Exit mobile version