অনলাইন ডেস্ক: সাম্প্রতিক টঙ্গী শিল্প এলাকায় চারটি কারখানায় মোট ৬টি ঘটনায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। কারখানায় কাজ করা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, বমি ও খিঁচুনি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাক’। ভয় থেকে এই রোগের জন্ম।
এদিকে, এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী কারখানায় মিলাদ পড়ানোর পর আর ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হচ্ছে না। সরেজমিন অনুসন্ধান করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) টঙ্গী শিল্প এলাকার মেঘনা রোডের (বিসিক) মা টাওয়ারে অবস্থিত এ্যামট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারার লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন। এর আগে ১২ জানুয়ারি গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেডের অর্ধশতাধিক শ্রমিক প্যানিকে আক্রান্ত হন।
দুই দিনে একই মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের গার্মেন্টসে দেড় শতাধিক শ্রমিক প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় দুই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ইমরুল কায়েস সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমিক অসুস্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্রমতে, গত বছরের ২৯ ও ৩০ নভেম্বর টঙ্গীর মিল গেট এলাকায় অবস্থিত হামীম গ্রুপের ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেডের (সিসিএল) শতাধিক শ্রমিক প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দেয়। তবে ৩০ নভেম্বর মিলাদ চলাকালেও একই কারণে শ্রমিক অসুস্থের ঘটনা ঘটে।
হামীম গ্রুপের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাকে ৪৩ জন শ্রমিক আহত হয়। এরপর শ্রমিকদের দাবির মুখে কারখানায় মিলাদের আয়োজন করি। এরপর থেকে আর এই রোগ নেই।
গত ২৩ ডিসেম্বর টঙ্গীর তিলারগাতি এলাকায় অবস্থিত কনসেপ্ট নীটিং লিমিটেডের অর্ধ শতাধিক শ্রমিক প্যানিক অ্যাটাকে অসুস্থ হন। এতে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে কনসেপ্ট নীটিং লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাকে ৩০-৩৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিল। তারপর কারখানা ছুটি দেওয়া হয়। এখন কারখানা খোলা। সমস্যা নেই।
এসব ঘটনায় অসুস্থদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত রেগীদের চিকিৎসা দেওয়া টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার নাহিদ সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের রোগীরা হিস্টোরি কনভারসেন্ট ডিজঅর্ডার বা প্যানিক অ্যাটাক নামক রোগে আক্রান্ত হয়। সাধারণত মশার ওষুধ ছিটানোর গন্ধ, কোনো স্প্রে, দুর্গন্ধ বা ওই স্থানের অক্সিজেন লেভেল কমে গেলে এই রোগ হয়।’
তিনি বলেন,এই রোগের লক্ষণ হলো : খিঁচুনি, বমি বা প্রচণ্ড শীত অনুভূত হওয়া। আবার ভয় থেকেও এই রোগের জন্ম হতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের রোগীরা অক্সিজেন পেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) আজাদ রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এসব ঘটনার পর আমরা নিরাপত্তা জোরদার করি। তবে তদন্ত করে কিছু পাওয়া যায়নি।

