অনলাইন ডেস্ক. বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রায়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করবে জাতীয় প্রেস ক্লাব। এতে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রবিবার প্রেস ক্লাবের নেতারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে শোক জানান। সেখানে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
এ সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের বাতিঘর। আমাদের সেদিন এজিএম ছিল, আমরা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করে সেটাকে আমরা শোকসভায় পরিণত করি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার যে অবদান এবং ভূমিকা সেটা একটা অচ্ছেদ্য বন্ধনে জড়িত। সেই কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।
আমরা আজকে আমাদের ম্যানেজিং কমিটির সভায় আমরা শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছি, সেই শোক প্রস্তাব আজকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জনাব তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছি। একটু আগে যেটা শুনলেন আমরা একটা নাগরিক শোকসভার আয়োজন করব ব্যাপক আকারে। সেখানে আমাদের একটা প্রকাশনাও থাকবে, সেখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমরা এসেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সম্মতি দান করেছেন।
তার সুবিধাজনক সময়ে দ্রুততম সময়ে সে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) বলেছেন, যে মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য যা যা করার, তিনি সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করি, তার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ আমরা একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং জুলাই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার হটানোর যে অঙ্গীকার নির্বাচন, যা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে দেশে এবং বিদেশে, সেটা ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সবাই মোকাবেলা করব। বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ-কর্ম আমাদের অনুপ্রাণিত করবে, এইটা শুধু বাংলাদেশ নয়, নিপীড়িত মানুষের জন্য এটা রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে।
তার যে অবিচল আপসহীনতা, সহজাত একটা নেতৃত্বের যে গুণাবলি, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা তিনি অর্জন করেছিলেন এবং পরমত সহিষ্ণুতা এবং ধৈর্যের গণতন্ত্রের প্রতি যে শ্রদ্ধাশীলতার যে পরাকাষ্ঠ তিনি দেখিয়ে গেছেন, সেটা বিশ্বের ইতিহাসে একটা অনন্য নজির হিসেবে বারবার আমরা স্মরণ করব। বিশ্ববাসী স্মরণ করবে।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা একটা নাগরিক শোকসভার আয়োজন করব। এটা বিশাল আকারে করার চেষ্টা করছি। তিনি (তারেক রহমান) সম্মতি দিয়েছেন। তিনি আগামী ১১ তারিখ ঢাকার বাইরে যাবেন। তার আগেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে শোকসভায় অংশগ্রহণ করবেন। আমাদের তিনি দু-এক দিনের মধ্যে জানিয়ে দেবেন, কবে শোকসভা আমরা করব।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া যেখানে বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন, সেটি আবার নতুন করে সূচনা করবেন বলে তিনি আমাদের কথা দিয়েছেন। আরেকটা বিষয় তিনি কথা বলেছেন যে সাংবাদিকরা যাতে মুক্তভাবে লিখতে পারেন এবং সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ গণমাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য তার বাবা-মা কাজ করে গেছেন, তিনিও সর্বতোভাবে সেটা করবেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনী চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা শোক জানার জন্য এখানে এসেছি। আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আমরা আজকে বৈঠক করেছি। আমরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে একটা শোকবার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের আবদাল ভাই শোকবাণী পড়ে শুনিয়েছেন। আমাদের প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সেখানে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা সেখানে একটা নাগরিক শোকসভার আয়োজন করব, তিনি সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আব্দুল শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম মহসিন, আতিকুর রহমান রুমন, জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

