সম্পাদকীয়. শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন একজন অকুতোভয় রাজনীতিবিদ, একজন সত্যিকারের বীর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন-মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে হয়, কারো কাছে মাথা নত করে নয়, কিংবা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করে নয়। ওসমান হাদী কখনোই মাথা নত করেননি।
পৃথিবীতে কিছু ক্ষণজন্মা মানুষের জন্ম হয়, ওসমান হাদী ছিলেন তাদেরই একজন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তাঁর শূন্যতা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে-নেতা কেমন হলে দেশ ও মানুষের উপকার হয়। আমরা দুর্ভাগা জাতি, কারণ সময় থাকতে আমরা বুঝতে পারিনি হাদী আমাদের কী বোঝাতে চেয়েছিলেন।
রাজনীতিতে যতদিন তিনি ছিলেন, বারবার একটি কথাই বলেছেন-নতুন করে যেন কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম না হয়, দেশে যেন কোনো মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর আমাদের ভেতরে যেন কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন, আমরা যদি ঐক্য ধরে রাখতে না পারি, তাহলে স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
আজ তাঁর মৃত্যুর পর আমরা সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি। ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন জায়গায় যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তা প্রমাণ করে—দেশকে অস্থির করার জন্য কোনো একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
এখন সময় এসেছে, এসব গোষ্ঠী যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে—সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

